হিল ভয়েস, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ঢাকা: কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটায় রাখাইন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শ্মশানের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং নির্মাণকাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পরিষদ।
সংগঠনটি এই ঘটনাকে ধর্মীয় অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে সুষ্ঠু বিচার ও রাষ্ট্রীয় জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মং এ খেন মংমং স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শ্মশান একটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও আবেগীয় স্মৃতির ধারক। এ ধরনের স্পর্শকাতর স্থানে হামলা ও নির্মাণকাজে বাধা প্রদান দেশের সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী। সংখ্যালঘু রাখাইন জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে পারে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিয়ে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পরিষদ ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে:
১. তদন্ত কমিটি: ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন।
২. আইনি ব্যবস্থা: জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।
৩. পুনর্নির্মাণ: ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল দ্রুত মেরামত এবং শ্মশানের নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক সহায়তা।
৪. স্থায়ী সুরক্ষা: রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫ সম্প্রীতি উদ্যোগ: প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করা।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “বাংলাদেশ বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা সহিংসতার মাধ্যমে এই গৌরবময় বৈচিত্র্যকে নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।” সংখ্যালঘু রাখাইন জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রায় তিনশ বছরের প্রাচীন রাখাইন জনগোষ্ঠীর একমাত্র বৌদ্ধ শ্মশানের নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে জামায়াত নেতা সৈয়দুল হক সিকদারের ভাতিজা আরমান সিকদারের নেতৃত্বে একটিদল নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি নির্মাণস্থলে এসে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বলেও জানা যায়।
+ There are no comments
Add yours