পিসিপি বাঘাইছড়ি থানা শাখার ২৩তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন

হিল ভয়েস, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, রাঙ্গামাটি: “সকল প্রকার বিভেদ ও জুম্ম পরিপন্থী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাঘাইছড়ি উপজেলার বটতলা কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, বাঘাইছড়ি থানা শাখার ২৩তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বাঘাইছড়ি আঞ্চলিক কমিটির পরিচালক পুলক জ্যোতি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রুমেন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মিলন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি বাঘাইছড়ি থানার সভাপতি লক্ষীমালা চাকমা প্রমুখ।

সম্মেলনের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এযাবৎকালে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

উক্ত সম্মেলনে পুলক জ্যোতি চাকমা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে তারুণ্যের প্রচেষ্টায় অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসতে হবে। দেশ, জাতি ও সমাজে তরুণদের অগ্রণী ভুমিকা রয়েছে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নানাবিধ বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভালো কাজে ব্যবহার করতে হবে। আগামীর লড়াই সংগ্রামে ছাত্র,যুব সকল পেশাজীবিকে এগিয়ে আসতে হবে নতুবা জুম্ম জণগণের অস্তিত্ব বিলুপ্তির মুখে পড়বে।

রুমেন চাকমা বলেন, ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে অকার্যকর করার জন্য শাসকগোষ্ঠী নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ষড়যন্ত্রের মূল ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে চুক্তিবিরোধী অপশক্তি ইউপিডিএফ। ২৭টি বছর ধরে তারা এই অপতৎপরা চালিয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজম্ম তাদের সেই অপতৎপরতা রূখে দিতে বদ্ধপরিকর এবং সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান পরিলক্ষিত হয়েছে এবং চুক্তি বিরোধী অপশক্তির সাথে মৌলবাদী শক্তির আতাঁতও পরিলক্ষিত হয়েছে। এমতাবস্থায় তরুণ ছাত্র সমাজকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে অপশক্তিকে প্রতিরোধ করার জন্য তাদেরকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনসংহতি সমিতিই একমাত্র আদর্শিক মুক্তিকামী সংগঠন যেটি জুম্ম জনগণের মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম এবং দীর্ঘ সময়ে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। জুম্ম তরুণ প্রজম্মের নেতৃত্ব জনসংহতি সমিতি বৃহত্তর আন্দোলনে এগিয়ে নিয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

মিলন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ যুগে যুগে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত হয়ে আসছে। তারই প্রতিবাদে পিসিজেএসএস দুই দশক ধরে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিল এবং ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত করেছিল। সেই চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্র সমাজের বৃহত্তর আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত হতে হবে। ২০২৫ সালে জেএসএস এর বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন সহ নানা ধরণের অপকর্মে জুম্ম জনগণকে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এর জন্যই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।

লক্ষীমালা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও এরকম নজীরবিহীন ঘটনা ঘটেছে যা বিচারবহির্ভূতভাবে রয়ে গিয়েছে। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি, সে সংস্কৃতি থেকে আজো রাষ্ট্র বের হয়ে আসতে পারেনি। এই সংগ্রামে শুধুমাত্র পুরুষের অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয়, নারী সমাজকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

পিসিপির বাঘাইছড়ি থানা শাখার বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক উদ্দীপন চাকমার সঞ্চালনায় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিসিপি বাঘাইছড়ি থানা শাখার সভাপতি চীবরণ চাকমা এবং আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি, বাঘাইছড়ি থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা।

চীবরণ চাকমাকে সভাপতি, সুদর্শন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং রুপেজ চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট পিসিপি বাঘাইছড়ি থানা শাখা কমিটি গঠন করা হয় এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আদর্শ চাকমা। একই সাথে পিসিপি, বাঘাইছড়ি থানা শাখা, শিজক কলেজ শাখা, সারোয়াতলী ইউনিয়ন আঞ্চলিক শাখা, খেদারমারা ইউনিয়ন আঞ্চলিক শাখা গঠন করা হয়।

More From Author

+ There are no comments

Add yours