বাংলাদেশের জনশুমারি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রেক্ষিত

0
27

মিতুল চাকমা বিশাল

ভূমিকা:

এই বছরের ১৪ জুন দিবাগত রাত ১২.০০টা থেকে ২১ জুন রাত ১২.০০টা পর্যন্ত, ৭ দিন বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১১ সালে দেশে ৫ম আদমশুমারি করা হয়। ২০২১ সালে এই জনশুমারি করার কথা থাকলেও করোনা প্রকোপের কারণে সেটিকে এক বছর পিছিয়ে এই বছরে করা হয়েছে। সচরাচর প্রতি দশ বছর অন্তর এই জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সালে,তৎপরবর্তী ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ করা হয়েছে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা হচ্ছে একটি দেশ বা সীমানা অঙ্কিত অঞ্চলের সকল ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ,সংকলন এবং প্রকাশের একটি সার্বিক প্রক্রিয়া। যেখানে সকল ব্যক্তির আর্থ-সমাজিক ও জনতাত্ত্বিক মৌলিক তথ্য-উপাত্ত ও আবাসিক স্থান,আবাসিক স্থানের অবস্থান,কাঠামোগত অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য ক্ষুদ্রতর ভৌগলিক স্তর পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়। এই সমস্ত সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত থেকে অতি সহজেই দেশের একটি সামগ্রিক রাজনৈতিক চরিত্রকে বুঝতে পারা যায়। কারণ,এর দ্বারা দেশের ধর্মীয় ও জাতিভিত্তিক পরিসংখ্যানের যে তথ্য ও উপাত্তগুলো পাওয়া যায়,সেগুলোর উপরও একটি দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্রটিকে মূল্যায়ন করা সহজ হয়ে ওঠে। দেশের ধর্মীয় ও সংখ্যালঘুদের উপর রাষ্ট্রের সংবেদনশীলতাও অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই জনশুমারির মাধ্যমে।

জনশুমারি ২০২২ ও সংখ্যালঘু:

এই বছরে হওয়া জনশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন(প্রায় ১৭ কোটি), যা ২০১১ সালে ছিল মোট ১৪,৪০,৪৩,৬৯৭ জন (প্রায় ১৫ কোটি)। জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ১৪.৬৬%, যা গত জনশুমারির তূলনায় নিম্নমুখী। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৯৭৪-১৯৯১ পর্যন্ত (যথাক্রমে ২১.৮৮% ও ২২.০৩%) উর্ধ্বমুখী থাকলেও তৎপরবর্তী সে হার ক্রমান্বয়ে নিম্নমূখী (২০০১ ও ২০১১ সালে যথাক্রমে ১৬.৯৭% ও ১৫.৮৩%) হয়েছে। এবারের জনশুমারির মোট ৮,১৭,১২,৮২৪ জন হচ্ছে পুরুষ এবং ৮,৩৩,৪৭,২০৬ জন হচ্ছে মহিলা, এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের রয়েছে ১২,৬২৯ জন। ১৯৮১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ২.৮৪%; ২.০১%; ১.৫৮%; ১.৩৭% ও ১.২২%। ২০০১-২০২২ সালে বাংলাদেশের ৭টি বিভাগে বিভাগীয়ভাবে জনসংখ্যার সর্বোচ্চ গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ঢাকায় (১.৭৪%) এবং সর্বনিম্ন বরিশালে (০.৭৯%)। ২০২২ সালে এসে বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন, যা গত ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ছিল ৯৭৬ জন। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীর হার ১.৪৩%, স্বাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬%, যা ২০১১ সালে ছিল ৫১.৭৭%। মোবাইল ব্যবহারকারীর হার ৫৫.৮৯% এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হার ৩০.৬৮%।

ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান হিসেব করলে দেখা যায় যে, ২০২২ সালের জনশুমারিতে দেশের মোট জনসংখ্যার ৯১.০৪% মুসলমান, ৭.৯৫% হিন্দু, ০.৬১% বৌদ্ধ, ০.৩০% খ্রীষ্টান এবং ০.১২% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। কিন্তু ২০১১ সালের আদমশুমারিতে যা ছিল যথাক্রমে ৯০.৩৯% মুসলমান, ৮.৫৪% হিন্দু, ০.৬২% বৌদ্ধ, ০.৩১% খ্রীষ্টান এবং ০.১৪% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। অপরদিকে স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৪ সালে দেশে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৮৫.৪% এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল ১৩.৫%, বাকি ১.১০% ছিল বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী, ১৯৮১ সালের আদমশুমারিতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৮৬.৭%, হিন্দু ছিল ১২.১%, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ছিল ১.১০%, ১৯৯১ সালে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৮৮.৩%, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল ১০.৫% এবং বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ছিল ১.১০% এবং ২০০১ সালে এসে মুসলিম জনসংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় ৮৯.৭%, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৯.২%, বৌদ্ধ ০.৭%, খ্রীষ্টান ০.৩ এবং অন্যান্য ০.২%। অথচ ১৯০১ সালের পরিসংখ্যানে এতদঞ্চলের মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জনসংখ্যার অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৬৬.১% ও ৩৩.০৯%।

তাহলে এ থেকে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে, স্বাধীনতা পরবর্তী বিগত বছরগুলোতে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা আনুপাতিক হারে কমেছে, সঠিকভাবে বলতে গেলে কমানো হয়েছে। ধর্মীয় সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ভূমি দখল করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং নিঃসন্দেহে এটি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশই ছিল।

সামগ্রিকভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে নিরাপত্তার অভাব সৃষ্টি করে দিয়ে,তাদেরকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আদিবাসীদের চেয়ে হিন্দুদের মধ্যে দেশত্যাগের প্রবণতা আরো বেশি। বিশেষ করে নিরাপত্তার অভাবের কারণেই হিন্দহরা প্রতিনিয়ত দেশত্যাগ করছে, সেই ভারত বিভাজন থেকে এই দেশত্যাগের সূচনা হয়েছিল তা এখনো চলমানই রয়েছে।

আদিবাসী:

অপরদিকে দেশের আদিবাসীদের জনসংখ্যা ১,৬৫০,১৫৯ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার ১.০০%। বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যানে আদিবাসীদের এই সংখ্যাটা যথাক্রমে,বরিশালে ৪,১৮১ জন (০.০৫%), চট্টগ্রামে ৯,৯০,৮৬০ জন (২.৯৯%), ঢাকায় ৮২,৩১১ জন (০.১৯%), খুলনায় ৩৮,৯৯২ জন (০.২২%), ময়মনসিংহে ৬১,৫৫৯ জন (০.৫০%), রাজশাহীতে ২,৪৪,৫৯২ জন (১.২০%), রংপুরে ৯১,০৭০ জন (০.৫২%) এবং সিলেটে ১,৩৬,৫৯৪ জন (১.২৪%)। জনগোষ্ঠীর হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যাটা হচ্ছে, ওঁরাও ৮৫,৮৪৬ জন (৫.২০%), কড়া ৯১৬ জন (০.০৫%), কন্দ ১,৮৯৮ জন (০.১২%), কোচ ১৩,৭০২ জন (০.৮৩%), কোল ৩,৮২২ জন (০.২৩%), খারওয়ার/খেড়োয়ার ৩১২ জন (০.০২%), খারিয়া ৩,০৯৯ জন (০.১৯%), খাসিয়া ১২,৪২১ জন (০.৭৫%), খিয়াং ৪,৮২৬ জন (০.২৯%), খুমি ৩,৭৮০ জন (০.২৩%), গঞ্জু ৪,১৩৭ জন (০.২৫%), গড়াইত ২,৭২৭ জন (০.১৭%), গারো ৭৬,৮৪৬ জন (৪.৬৬%), গোর্খা ১০০ জন (০.০১%), ডালু ৩৮৬ জন (০.০২%), চাক ৩,০৭৭ জন (০.১৯%), চাকমা ৪,৮৩,২৯৯ জন (২৯.২৯%), তঞ্চঙ্গ্যা ৪৫,৯৭২ জন (২.৭৯%), তুরি ৩,৭৯২ জন (০.২৩%), তেলী ২,০৮২ জন (০.১৩%), ত্রিপুরা ১,৫৬,৫৭৮ জন (৯.৪৯%), পাংখোয়া ১,৮৫৭ জন (০.১১%), পাত্র ৩,১০০ জন (০.১৯%), মালপাহাড়ী ৮,৮০১ জন (০.৫৩%), বড়াইক ৩,৪৪৪ জন (০.২১%), বম ১৩,১৯৩ জন (০.৮০%), বর্মণ ৪৪,৬৫৭ জন (২.৭১%), বাগদী ১২,০৯২ জন (০.৭৩%), বানাই ২,৮৫১ জন (০.১৭%), বেদিয়া ৭,২০৭ জন (০.৪৪%), ভিল ৯৫ জন (০.০১%), ভূঁইমালী ১,৯৩০ জন (০.১২%), ভূমিজ ৯,৬৬৪ জন (০.৫৯%), মণিপুরী ২২,৯৭৮ জন (১.৩৯%), মারমা ২,২৪,২৬১ জন (১৩.৫৯%), মালো ১৪,৭৭১ জন (০.৯০%), মাহাতো ১৯,২৭১ জন (১.১৭%), মাহালী ৬,৬১৪ জন (০.৪০%), মূন্ডা ৬০,১৯১ জন (৩.৬৫%), মুসহর ৪,৬০০ জন (০.২৮%), ম্রো ৫২,৪৫৫ জন (৩.১৮%), রাখাইন ১১,১৯৫ জন (০.৬৮%), রাজোয়ার ২,৩২৭ জন (০.১৪%), লুসাই ৩৮০ জন (০.০২%), লোহার ৩,৪১৮ জন (০.২১%), শবর ১,৯৮০ জন (০.১২%), সাঁওতাল ১,২৯,০৪৯ জন (৭.৮২%), হাজং ৭,৯৯৬ জন (০.৪৮%), হুদি ১,৫৯৩ জন (০.০৯%), হো ২২৩ জন (০.০১%) এবং অন্যান্য ৬৮,৫৩৮ জন (৪.১৫%)।

গতবারের (২০১১) জনশুমারিতে এই জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ১.১০%। ২০০১ সালে আদিবাসীদের এই সংখ্যাটি ছিল দেশের মোট জনসংখ্যার ১.১৩%। একই প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের জনসংখ্যার হারও তূলনামূলকভাবে কমছে।

ধর্মান্তরকরণ, ভূমি থেকে উচ্ছেদ, তথাকথিত উন্নয়ন, নিরাপত্তার অভাব, সর্বোপরি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দমন-পীড়নে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলো আজ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

টাঙ্গাইলের মধূপুর কিংবা সিলেটের খাসিয়া পুঞ্জি অথবা পটুয়াখালীর সেই রাখাইন সম্প্রদায়, কাউকেই টিকতে দেওয়া হচ্ছে না এই দেশে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী:

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পাহাড় ঘেরা পার্বত্য চট্টগ্রাম। ঐতিহাসিকভাবেই এতদঞ্চলে ভিন্ন ভাষাভাষি প্রায় ১৪টি জাতির বসবাস। কালের পরিক্রমায় রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন আর নিপীড়নের ফলে স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক আর অর্থনৈতিক জীবনধারার এই মানুষগুলো আজ ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। সমগ্র বাংলাদেশের আদিবাসীদের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বাস করে এই পার্বত্য চট্টগ্রামে। তবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পূনর্বাসিত বহিরাগতদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমাগত বহিরাগতের অনুপ্রবেশের ফলে এতদঞ্চলের ভূমিপুত্ররাই আজ সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা ১৮,৮২,৮১৫ জন, তার মধ্যে বাঙালী (স্থায়ী ও বহিরাগত) ৯,২৫,৯৮ জন এবং পাহাড়ী ৯,২০,২১৭ জন। অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালী ও পাহাড়ী জনসংখ্যার বর্তমান অনুপাত ৫০.০৬% এবং ৪৯.৯৪%। স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, এখন পাহাড়ে পাহাড়ীদের তূলনায় বাঙালীদের সংখ্যা বেশি। জেলা ভিত্তিক এই পরিসংখ্যান হচ্ছে যথাক্রমে, খাগড়াছড়িতে ৭,১৪,১১৯ জন,তার মধ্যে পাহাড়ী ৩,৪৯,৩৭৮ জন (৪৮.৯২%) এবং বাঙালী ৩,৬৪,৭৪১ জন (৫১.০৮%), রাঙামাটিতে মোট জনসংখ্যা ৬,৪৭,৫৮৭ জন,তারমধ্যে পাহাড়ী ৩,৭২,৮৬৪ জন (৫৭.৫৮%) ও বাঙালী ২,৭৪,৭২৩ জন (৪২.৪২%) এবং বান্দরবানের মোট জনসংখ্যা ৪,৮১,১০৯ জন, তারমধ্যে পাহাড়ী জনসংখ্যা ১,৯৭,৯৭৫ জন (৪১.১৫%) এবং বাঙালী ২,৮৩,১৩৪ জন (৫৮.৮৫%)।

অথচ, ২০১১ সালের জনশুমারীতে এই সংখ্যাটা ছিল ১৬,১৩,৯৮৯ জন। তার মধ্যে পাহাড়ীদের জনসংখ্যা ছিল ৮,৫২,৫৪০ জন এবং বাঙালী ছিল ৭,৬১,৪৪৯ জন। অর্থাৎ পাহাড়ী ও বাঙালীর অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৫২.৮২% ও ৪৭.১৮%। তৎসময়ে জেলা ভিত্তিক এই পরিসংখ্যান ছিল যথাক্রমে খাগড়াছড়িতে ৬,১৩,৯১৭ জন, তার মধ্যে পাহাড়ী জনসংখ্যা ৩,১৬,৯৮৭ জন (৫১.৬৩%) এবং বাঙালী ২,৯৬,৯৩০ জন (৪৮.৩৭%); রাঙামাটিতে এই সংখ্যাটা ৫,৯৫,৯৭৯ জন, তার মধ্যে পাহাড়ী জনসংখ্যা ৩,৫৬,১৫৩ জন (৫৭.৫৮%) এবং বাঙালী ২,৩৯,৮২৬ জন (৪০.২৪%); বান্দরবানের মোট জনসংখ্যা ছিল ৪,০৪,০৯৩ জন, তারমধ্যে পাহাড়ী জনসংখ্যা ছিল ১,৭৯,৪০০ জন(৪৪.৪০%) এবং বাঙালী ২,২৪,৬৯৩ জন (৫৫.৬০%)। অপরদিকে ২০০১ সালের আদমশুমারিতে পাহাড়ী ও বাঙালী জনসংখ্যার অনুপাত যথাক্রমে ৪৯% ও ৫১%; একইভাবে ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা ছিল ৯,৭৪,৪৪৫ জন এবং পাহাড়ী-বাঙালীর এই অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৫১% ও ৪৯%,। ১৯৮১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে এতদঞ্চলের জনসংখ্যা ছিল ৭,৫৪,৯৬২ জন,পাহাড়ী-বাঙালীর অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৫৯% ও ৪১%। আর বাঙালীদের এই বিপুল জনসংখ্যার অধিকাংশই বহিরাগত তথা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপেষকতায় পূনর্বাসিত সেটেলার। পরিসংখ্যানে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাক্ষরতার হার ৬৮.৯% দেখানো হয়েছে,তিন পার্বত্য জোলায় (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) তা যথাক্রমে ৭১.৩৩%; ৭১.৭৩% এবং ৬৩.৬৪%।

অপরদিকে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় যে,পাহাড়ে চলমান বিষয়গুলো দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে,পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৮,২০,৪৯৮ জন (৪৪.৫২%) মুসলিম; ৭,৬৯,২৭৯ জন (৪১.৭৪%) বৌদ্ধ; ১,৬৯,০৯৬ জন (৯.১৮%) হিন্দু; ৬০,০২৮ জন (৩.২৬%) খ্রীষ্টান এবং ২৪,০৩৪ জন (১.৩০%) অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। অথচ ২০১১ সালের আদমশুমারিতেও পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৬,৮০,৮১০ জন(৪২.১৮%) ছিল মুসলিম; ৭,০১,৩৯৯ জন (৪৩.৪৬%) ছিল বৌদ্ধ; ১,৪৬,৫৭৬ জন (৯.০৮%) ছিল হিন্দু; ৫২,০৬৬ জন (৩.২৩%) ছিল খ্রীষ্টান এবং ১৭,৩৮০ জন (১.০৮%) ছিল অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান হিসেব করলে দেখা যায় যে,খাগড়াছড়িতে মোট জনসংখ্যার ৩,৩২,৪৯৪ জন (৪৬.৫৬%) মুসলিম; বৌদ্ধ ২,৫৬,৫১২ জন (৩৫.৯২%); হিন্দু ১,১৯,৬১৫ জন (১৬.৭৫%); খ্রীষ্টান ৪,৪২৮ জন (০.৬২%) এবং অন্যান্য ১,১৪৩ জন (০.১৬%)। ২০১১ সালে যথাক্রমে যা ছিল,মুসলিম ২,৭৪,২৮৮ জন (৪৪.৬৭%); বৌদ্ধ ২,৩১,৩০৯ জন (৩৭,৬৮%); হিন্দু ১,০৩,১৯৫ জন (১৬.৮১%); খ্রীষ্টান ৪,০৭০ জন (০.৬৬%) এবং অন্যান্য ১,০৮৫ জন (০.১৮%)।

রাঙামাটিতে মুসলিম ২,৩৪,৫৫৬ জন (৩৬.২২%); বৌদ্ধ ৩,৭০,৭৭০ জন (৫৭.২৫%); হিন্দু ৩৩,০২৭ জন (৫.১০%); খ্রীষ্টান ৮,৫৪৮ জন (১.৩২%) এবং অন্যান্য ৭১২ জন (০.১১%)। ২০১১ সালে যা ছিল, মুসলিম ২,০৯,৪৬৫ জন (৩৫.১৫%); বৌদ্ধ ৩,৪৭,০৩৮ জন (৫৮.২৩%); হিন্দু ৩০,২৪৪ জন (৫.০৭%); খ্রীষ্টান ৮,৬৬৩ জন (১.৪৫%) এবং অন্যান্য ৫৬৯ জন (০.১০%)।

একইভাবে বান্দরবানে এবারের পরিসংখ্যানে মোট জনসংখ্যার ২,৫৩,৪৪৮ জন (৫২.৬৮%) ছিল মুসলিম; বৌদ্ধ ১,৪২,০২৩ জন (২৯.৫২%); হিন্দু ১৬,৪৫৪ জন (৩.৪২%); খ্রীষ্টান ৪৭,০৫২ (৯.৭৮%) এবং অন্যান্য ২২,১৭৯ জন (৪.৬১%)। যা ২০১১ সালে ছিল, মুসলিম ১,৯৭,০৮৭ জন (৪৪.৭৭%); বৌদ্ধ ১,২৩,০৫২ জন (৩০.৪৫%); হিন্দু ১৩,১৩৭ জন (৩.২৫%); খ্রীষ্টান ৩৯,৩৩৩ জন (৯.৭৩%) এবং অন্যান্য ১৫,৭২৬ জন (৩.৮৯%)।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপরোক্ত তথ্য-উপাত্তই বলে দেয় পাহাড়ের পরিস্থিতি কত ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক। দেশ বিভাগের সময়ে এতদঞ্চলে পাহাড়ী-বাঙালির অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৯৭% এবং ৩%। তথাপি উক্ত ৩% বাঙালির মধ্যে ২% কিছু অধিক ছিল মুসলিম এবং বাকিরা ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এছাড়াও উক্ত বাঙালীরা কেউই রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় পূনর্বাসিত ছিলেন না অর্থাৎ তারা কোন প্রশাসন বা সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিলেন না। দেশবিভাগ পরবর্তী চার বছরে, ১৯৫১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী বাঙালীদের এই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ায় ৬.২৯% এবং পাহাড়ীদের সংখ্যাটা ছিল মোট জনসংখ্যার ৯৩.৭১%,উক্ত জনশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা ছিল ২,৮৭,২৪৭ জন। ১৯৬১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পাহাড়ের মোট জনসংখ্যা ছিল ৩,৩৯,৭৫৭ জন,যেখানে পাহাড়ী ও বাঙালীর জনসংখ্যার অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৮৮.২৩% ও ১১.১৭%। তারপরেও স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাঙালীদের এই পূনর্বাসনকে একটি স্বাভাবিক অভিবাসন হিসেবেই ধরা যায়। কেননা সেই মুহুর্তে তাদের চিন্তায়-মননে আগ্রাসী কিংবা কোনপ্রকার বৈরীভাব ছিল না। পাহাড়ীদের সাথে একই সামাজিক পরিবেশে পারস্পারিক এক সহাবস্থানের মধ্যদিয়ে তারা বাস করেছে।

কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮১ সালের আদমশুমারিতে পাহাড়ী-বাঙালীর অনুপাত হয়ে দাঁড়ায় ৫৯% ও ৪১%। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান কর্তৃক রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সমতলের চড়ভাঙা ও অসহায় দরিদ্র ৪ লক্ষাধিক বাঙালি মুসলিমকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পনর্বাসন করায় এই জনমিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। পরবর্তী ১৯৯১ সালের আদমশুমারীর হিসাব অনুযায়ী পাহাড়ী-বাঙালীর অনুপাত যথাক্রমে ৫১% ও ৪৯%। এই অনুপাত থেকে সহজেই অনুমেয় হয় যে,ঠিক কত দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রামে ইসলামীকরণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় বিষয় এই যে,দেশবিভাগ পরবর্তী ১৯৪৭ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এই ৩৪টি বছরে এই জনমিতির পরিবর্তনের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তদুপুরি বর্তমান সময়ে এসেও এই বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ কোনমতেই কমছে না। পার্বত্য চুক্তিকে লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্থায়ী বাসিন্দার সনদ প্রদান করে বহিরাগতদের পাহাড়ে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে এইসমস্ত বহিরাগতদের উচ্চ জন্মহার এবং পাহাড়ীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণও এই জনমিতির পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ। একইভাবে ১৮৭১-১৯৯১ সালের পরিসংখ্যানের হিসাব বলছে এই সূদীর্ঘ সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে উর্ধ্বমুখী থাকলেও লুসাই,খিয়াং ও খুমিদরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ক্রমাগত নিম্নমুখী।

পর্যটন, উন্নয়ন, ভূমি দখল, নিরাাপত্তাহীনতা, ধর্মান্তরিতকরণ ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ফলে পাহাড়ীদের মাঝে দেশত্যাগের প্রবণতা বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী-বাঙালী জনসংখ্যার এই অনুপাত সৃষ্টি করেছে। আমরা দেখেছি সাজেকে পর্যটনের ফলে কিভাবে সেখানে থাকা ৬৫টি জুম্ম পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে,এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিলাইছড়ি,লংগদু ও রুমা এলাকার অধিকাংশ বম ও পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দেশত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছ। এর কারণ হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিগ্রহ,সুযোগ-সুবিধার অভাব,তথাকথিত উন্নয়নের নামে পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তের অপ্রতুলতা উল্লেখ্যযোগ্য। বিশেষ করে উন্নয়নের নামে পাহাড়ের জুম্ম জনগণের অর্থনৈতিক জীবনধারাকে সমূলে উৎখাত করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত,অন্যদিকে বহিরাগতের ক্রমাগত অনুপ্রবেশ এতদঞ্চলে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও জীবিকার প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে দিয়েছে। একইভাবে চিম্বুক পাহাড়ে ৭৫০ পরিবারের একটি গ্রামকে ধ্বংস করা হয়েছে পর্যটনের নামে এবং নীলগিরির প্রায় ২টি ম্রো আদিবাসীর গ্রামকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। যাদের অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী মায়ানামারে দেশান্তরী হয়েছিল।

২০১৪ সালে ১৬ অক্টোবর, বান্দরবান জেলা প্রশাসকের নিকট “বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন” নামের সংগঠনের পেশ করা প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, পার্বত্য চুক্তির পরে কেবলমাত্র লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাতে ভূমি দখলের কারণে মোট ১০টি আদিবাসী পাড়া উচ্ছেদ হয়েছে। তারমধ্যে লামা উপজেলার সাঙ্গু মৌজার আমতলী ম্রো পাড়া,মংবিচর বাচিং মারমা পাড়া,চারিগ্য ত্রিপুরা কারবারী পাড়া এবং লুলাইন মৌজার লুলাইন মুখ ম্রো পাড়া। অপরদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় উচ্ছেদ হওয়া পাড়াগুলো হচ্ছে, আলেক্ষ্যং মৌজার বাদুরঝিড়ি চাক পাড়া,লংগদু ঝিড়ি চাক পাড়া, হামরা ঝিড়ি ও সাপমারা ঝিড়ি মারমা পাড়া, ইদগড় মৌজার রাঙাঝিড়ি চাকমা পাড়া ও ডলুঝিড়ির মারমা পাড়া। একইভাবে আলীকদম উপজেলার তৈনফা মৌজার উক্লিং ম্রো পাড়া ও লামার ফাইতং মৌজার সুনং পাড়া নামে ২টি গ্রাম অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

৩০ জুন ২০২০ সালে ডেইলী স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয় যে, চুক্তির পরে বান্দরবানের ৮টি মৌজার প্রায় ২৫০টি জুম্ম পরিবারকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে। “বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন”-এর দেওয়া ১০টি গ্রাম ছাড়াও ডেইলী স্টার তাদের প্রতিবেদনে আরো আলীকদমের উকলিংপাড়া, মেনসম ম্রোপাড়া এবং সদর উপজেলার সাইংগা মারমাপাড়া থেকে পাহাড়ি পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ হওয়ার কথা জানিয়েছ।

একইভাবে নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি মৌজার শৈজাইংপাড়া গ্রামটিকেও উচ্ছেদ করা হয়েছে। নিরাপত্তার অভাব সৃষ্টি করে সেখানে বহিরাগতরা এসে গণডাকাতি করে যায় এবং স্থানীয়রা নিজেদের বাঁচার তাগিদে পাড়া ছাড়তে বাধ্য হন।

সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে সেনাবাহিনীর পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের জন্য ৭০-১১০টি পাড়ার প্রায় ১১শ একর ভূমি দখল করার পায়তারা আমরা লক্ষ্য করেছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ এবং স্থানীয় জুম্ম জনগণের প্রতিরোধের মুখেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তেমন কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় নি। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেখা যাবে ধীরে ধীরে আদিবাসীদের জীবনধারণে নানা সংকট তৈরি হবে,যা তাদের জীবিকা নির্বাহে ও স্বাধীন জীবন-যাপনে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করবে। ফলশ্রুতিতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে এই পাড়াগুলোও উচ্ছেদ হয়ে যাবে এবং মানুষগুলো দেশান্তরী হতে বাধ্য হবে।

অপরদিকে বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক ৩টি ম্রো পাড়াকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে প্রায় ৪০০ একর জায়গার জঙ্গল পরিষ্কার, আগুন দেওয়া ও ঝিড়িতে কীটনাশক প্রয়োগের মতন হীন ষড়যন্ত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি৷ একইভাবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, উক্ত জায়গাতে লামা ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন প্ল্যান্টেশনের জন্য সকল স্থাপনা(আদিবাসীদের স্থাপনা) অপসারণের জন্য রাবার বোর্ডের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি নেটিশ জারি করা হয়েছে।

উপসংহার:

পরিশেষে এটুকুই বলা যায় যে,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি জুম্ম অধ্যূষিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে এবং এর বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি একটি পাহাড়ী অধ্যূষিত অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনমিতি এবং জনশুমারি পর্যবেক্ষণ করলেই সেটি বুঝা যায়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় পাহাড়ীরাই এতদঞ্চলে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ৭০-৮০ দশকে যে বহিরাগতদের পাহাড়ে পূনর্বাসন করা হয়েছে,সেই বহিরাগতদের জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে পাহাড়ীদের অধিক হয়ে গেছে। একইভাবে কোন না কোনভাবে সরাসরি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় না হলেও বর্তমানে এই অনুপ্রবেশ থামছে না। উপর্যপুরি চুক্তিকে লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদান করে সেই সমস্ত বহিরাগতদের পাহাড়ের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে,তাদেরকে এখানে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে,যা সত্যিং দুঃখজনক। পাহাড়ে পূনর্বাসিত এই সমস্ত বহিরাগতদের সাথে পাহাড়ে ইসলামীকরণের বিষয়টিও স্পষ্ট। বিগত দুই দশকের জনশুমারি পর্যবেক্ষণ করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বহিরাগতের অনুপ্রবেশ এবং পাহাড়ীদের আর্থিক অস্বচ্ছলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ইসলামিক মৌলবাদী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন দিয়ে প্রতিনিয়ত পাহাড়ীদেরকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিতকরণ চলছে। ফলশ্রুতিতে দেশ বিভাগের সময়ে পাহাড়ে যে মুসলিম জনসংখ্য মাত্র ২% এর কিছু অধিক ছিল,৭০ বছর পরে তারাই আজ পাহাড়ের সংখ্যাধিক্যতা লাভ করেছে।

সত্যি বলতে পাহাড়ের বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়গুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here